এক বছরের জন্য পিছিয়ে পড়লে ১৩ শিক্ষার্থী - সময় আমাদের ২৪

Latest

বৃহস্পতিবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

এক বছরের জন্য পিছিয়ে পড়লে ১৩ শিক্ষার্থী

এক বছরের জন্য পিছিয়ে পড়লে ১৩ শিক্ষার্থী
শিক্ষাঙ্গন ডেস্ক : ১৩ দাখিল পরীক্ষার্থী মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারনে এবার পরীক্ষা দিতে পারছেনা। আর সে করনে একটা বছর পিছিয়ে পড়লো তারা। দোয়ারাবাজার উপজেলার দোহালিয়া ইউনিয়নের প্রতাপপুর গ্রামে ‘সিদ্দিকে আকবর (রাঃ) লতিফিয়া দাখিল মাদ্রাসায় এমন ঘটনা ঘটে। কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোনিয়া সুলতানা ওই মাদ্রাসা সুুুপার মোহাম্মদ আব্দুল মুকিতকে বহিষ্কার করার জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে নির্দেশ প্রধান করেছেন।

এদিকে পরীক্ষা দিতে না পেরে ক্ষোভ ও হতাশায় বিক্ষুব্দ হয়ে ওঠেছে শিক্ষার্থীরা। এরইমধ্যে গত সোমবার বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠানের দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেয়।

অপরদিকে গত ৫ দিন ধরে মাদ্রাসা সুপার আব্দুল মুকিত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এ নিয়ে গোটা এলাকায় আলোচনা সমালোচনা চলছে। এছাড়া শিক্ষার্থীরা ওই মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে ফরমফিলাপ ও রেজিস্ট্রেশনের টাকা আত্মসাতেরও অভিযোগ করেছেন। পরীক্ষার প্রবেশপত্র না পেয়ে সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পরীক্ষার্থীরা মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।

এ অবস্থায় বুধবার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোনিয়া সুলতানা সিদ্দিকে আকবর (রাঃ) লতিফিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুুুপার মোহাম্মদ আব্দুল মুকিতকে বহিষ্কার করার জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে নির্দেশ দিয়েছেন।

অভিযোগের ভিত্তিতে ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়- ১৯৯৪ সালে দোহালিয়া ইউনিয়নের প্রতাপপুর গ্রামের ও আশপাশের ১০টি গ্রামের লোকজনের সার্বিক সহযোগিতায় মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। চলতি বছর এই মাদ্রাসা থেকে ১৩ জন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহন করার কথা ছিল। কিন্তু মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ সময় মতো তাদের রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও প্রবেশপত্র দিতে না পারায় শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে না পেরে চরম হতাশায় পড়েছেন। এদের মধ্যে অনেক শিক্ষার্থী খাওয়া-ধাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

মাদ্রাসার শিক্ষার্থী রিয়াজ উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরা সময় মতো ফি পরিশোধ করে রেজিস্ট্রেশনের ফি ও ফরম ফিলাপের টাকাও জমা দিয়েছি মাদ্রাসার সুপারের নিকট। কিন্তু রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও প্রবেশপত্র পাইনি।’

শিক্ষার্থী মোছাম্মদ সামিয়ারা বেগম বলেন, আমাদের কাছ থেকে সুপার সাহেব রেজিস্ট্রেশন এর সময় ৫ শত টাকা দিয়েছি এবং ফরম ফিলাপের জন্য ৩ হাজার টাকা দিয়েছি আমরা। এমনকি অত্যন্ত আনন্দিত ছিলাম এবারের পরীক্ষায় পাশ করে কলেজে লেখাপড়া করব, আমাদের সেই আশা পূরণ হলো না।’

আরেক শিক্ষার্থী সুলতানা বেগম বলেন, ‘আমাদের মাদ্রাসার সুপার সাহেব পরীক্ষার ৪/৫ দিন আগে আমাদের বিদায়ী অনুষ্ঠানও করেছেন। সেই সময় বলেছেন পরীক্ষার একদিন আগে প্রবেশপত্র পাবেন। আমাদের নিয়া এই তামাশা না করলেও পারতেন। মাদ্রাসা সুপার মাওলানা আব্দুল মুকিতের চরম গাফিলতির কারণে দাখিল পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। আমাদের দুইটি বছর নষ্ট করেছেন তিনি এখন এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।’

মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আব্দুল মুকিতের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। গত ৪দিন ধরে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ রয়েছে। এ বিষয়ে সহকারী-সুপার মাওলানা জায়েদ আহমদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, শিক্ষার্থীদের এবার দাখিল পরীক্ষা দিতে না পারার জন্য মাদ্রাসা সুপার সাহেব দায়ী। এ বিষয়ে আমাদের সাথে সুপার সাহেব কোন প্রকার যোগাযোগ বা পরামর্শ করেন নাই।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোনিয়া সুলতানা বলেন, মাদ্রাসা সুপার দাখিল পরীক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন না করিয়ে তাদের রেজিস্ট্রেশনের বিষয়টি গোপন করে আবার পরীক্ষার পূর্বে তাদের বিদায়ী সংবর্ধনাও দিয়েছেন তিনি, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। মাদ্রাসার সুপারকে বহিস্কার করা হয়েছে। তদন্তপূর্বক বাকি জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানোগ ব্যাবস্থা নেয়া হবে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন