বহির্বিশ্ব ডেস্ক : কারান্তরীণ বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য এবং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের কয়েকজন সদস্য।
তারা বৈদেশিক ও সুরক্ষা নীতিবিষয়ক ইউরোপীয় ইউনিয়নের উচ্চ প্রতিনিধি জোসেপ বোরেল ফন্টেলস বরবার এই চিঠি পাঠান। সদস্যরা হচ্ছেন, শাফাক মোহাম্মদ, ফিল বেনিওন, ক্যাটালিন সেহ, নাওমি লং, ফ্যাবিও ম্যাসিমো কাস্তালদো, লুসি নেথসিং, ইভান স্টেফেনেক এবং হিলদে ভাউতম্যানস। শাফাক মোহাম্মদের জন্ম পাকিস্তান নিয়ন্ত্রণাধীন কাশ্মীরে। চার বছর বয়সে তিনি বৃটেনে পাড়ি জমান।
চিঠিতে বলা হয়, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়, খালেদা জিয়াকে দুর্নীতি মামলায় কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ২০১৮ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে যে, তার দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে (বিএনপি) নির্বাচনে জয় লাভে বাধা দেওয়ার জন্য গ্রেপ্তারের সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। শাসক দল আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধেও বাংলাদেশের বিরোধী দলকে দমনচেষ্টার অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া বিএনপির কয়েকশ সদস্যকে সন্ত্রাসদমন করার নামে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল তার পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে জানতে পেরেছে যে, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী খালেদা জিয়ার পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া অধিকার রয়েছে। কিন্তু তা সম্পূর্ণরূপে পূরণ হচ্ছে না।
এছাড়াও তার পরিবারের সদস্যদের সরকারি মেডিক্যাল রেকর্ড জানার যে অধিকার রয়েছে তা থেকেও বঞ্চিত করা হয়েছে। চিঠিতে খালেদা জিয়ার মামলার বিচার নিয়েও প্রশ্ন তুলেন তারা। চিঠিতে আরো বলা হয়, এই পদক্ষেপগুলো বোঝায় যে, বাংলাদেশের বর্তমান সরকার ২০১৫ ও ২০১৮ সালের ইউরোপীয়ান পার্লামেন্টের রেজুলেশন মানতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই মানবাধিকার অবনতি পরিস্থিতির বিপরীতে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে আহ্বান জানান তারা।
চিঠিতে ইইউ সদস্যরা বলেন, এই প্রতিবেদনের (অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের বিবৃতি) আলোকে, আমরা আপনাকে (জোসেপ বোরেল ফন্টেলস) বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাতে অনুরোধ করছি, যেন কারাগারে জাতিসংঘের স্ট্যান্ডার্ড ন্যূনতম নীতিমালা (নেলসন ম্যান্ডেলা বিধি) মেনে খালেদার চিকিৎসা করা হয়। সেই সঙ্গে তাঁর (খালেদা জিয়া) বিচারের ন্যায্য অধিকারগুলোকে সম্পূর্ণরূপে সম্মানিত করা হয়। চিঠিতে বাংলাদেশে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সমন্বয় সাধনের আহ্বান জানানো হয় বোরেল ফন্টেলসের কাছে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন