সিলেটের হেপী নিজের লিভার দান করে স্বামীকে বাঁচালেন - সময় আমাদের ২৪

Latest

শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২০

সিলেটের হেপী নিজের লিভার দান করে স্বামীকে বাঁচালেন

সিলেটের হেপী নিজের লিভার দান করে স্বামীকে বাঁচালেন
সু-স্বাস্থ্য ডেস্ক : স্বামীকে নিজের লিভার দান করে প্রশংসায় ভাসছেন সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা সদরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মিন্টু রঞ্জন ধরের স্ত্রী হেপী। প্রিয়তম স্বামীর জীবন সংকটাপন্ন অবস্থা দেখে ভালোবাসার নিদর্শন তৈরি করতে নিজের জীবন বিপন্ন করে স্বামী কে লিভার দিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন স্ত্রী ওসমানীনগরের গোয়ালাবাজার ইউনিয়নের পশ্চিম ব্রাহ্মণগ্রামের মৃত বেনু দেবের মেয়ে হেপী রাণী ধর।

বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) ভারতের দিল্লি শহরের হাসপাতালে সকাল ৮টা থেকে প্রায় ১৬ ঘন্টার দীর্ঘ  অপারেশনে তাদের লিভার ট্রান্সপার করা হয়। এলাকাবাসী ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জগন্নাথপুর বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক মিন্টু রঞ্জন ধর বেশ কিছু দিন ধরে লিভারের জটিল রোগে ভুগছিলেন।

চিকিৎসকদের পরামর্শে তার লিভার ট্রান্সপারেন্ট করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে পরিবারের পক্ষ থেকে ডোনার খোঁজা হয়। অনেক খোঁজাখুঁজি ও আইনি নানা জটিলতায় যখন তার জীবন বিপন্ন হতে চলছে ঠিক সেই সময় স্ত্রী হেপী রানী ধর নিজের জীবন কে বিপন্ন করে স্বামী কে লিভার দিলেন। ‘কোনকালে একা হয়নিকো জয়ী, পুরুষের তরবারী;/ প্রেরণা দিয়েছে, শক্তি দিয়াছে, বিজয়ালক্ষী নারী’… বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের এ লাইনগুলো এখানে যেন তার স্বার্থকতা পেয়েছে।

মিন্টু রঞ্জন ধর এর ভাই জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার মধুসুধন ধর জানান, ডা.অভিদ্বীপ চৌধুরী (HPB & Liver transplant surgeon) এর নেতৃত্বে দিল্লির বিএলকে হাসপাতালে অপারেশন চলে । তিনি বলেন, স্বামীর জীবন রক্ষায় বৌদির এরকম মহানুভবতা এবং উনার মা, ভাই সহ সকলের প্রতি রইল অকৃত্রিম ভালবাসা ও কৃতজ্ঞতা।  তিনি ভাই ও বৌদির সুস্থতায় সকলের আশীর্বাদ কামনা করেন।

দিল্লিতে অবস্থানরত হেপি রাণীর ভাই সুব্রত দেব বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টায় জানান, অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ডাক্তার বলেছেন তারা উভয়েই এখন শঙ্কামুক্ত।

এদিকে জগন্নাথপুর উপজেলা সদরে শ্রীশ্রী বাসুদেব মন্দিরে মিন্টু রঞ্জন ধরের রোগ মুক্তি কামনায় সম্মিলিত প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন