সময় ডেস্ক : জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা- আইওএমের ভলান্টারি হিউম্যানিটারিয়ান রিটার্ন (ভিএইচআর) কর্মসূচীর মাধ্যমে নিরাপদে লিবিয়া থেকে দেশে ফিরেছেন ১৪৮ বাংলাদেশী। তাদের মধ্যে ত্রিপলীতে ড্রোন হামলায় আহতসহ ৯ জন অসুস্থ প্রবাসী রয়েছেন। এছাড়া ওই ফ্লাইটে বিভিন্ন ঘটনায় মারা যাওয়া পাঁচজন প্রবাসীর মৃতদেহও দেশে প্রেরণ করা হয়েছে।
আইওএমের ভাড়া করা বিমানে লিবিয়ার মিসারত বিমানবন্দর থেকে বুধবার দুপুরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তারা।
অভিবাসীদের মধ্যে আছেন যুদ্ধে আহত, সমুদ্র পথে ইউরোপ যেতে ব্যর্থ এবং লিবিয়ার জেলে বন্দি থাকা অভিবাসীরা। আইওএম এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুরের মোঃ আকবর চার বছর আগে লিবিয়ায় গিয়েছিলেন পরিবারের ভাগ্য বদলাতে। তিনি বলেন, বেতন ছিল খুবই কম। কোনমতে সেখানে নিজে চলতে পারলেও পরিবারের জন্য কিছুই পাঠাতে পারতেন না। যে কারখানায় কাজ করতেন হঠাৎ সেখানে একদিন বিমান হামলা হয়। চার বাংলাদেশীসহ ১৩ জন মারা যান।
আকবর বলেন- সে এক ভায়াবহ অভিজ্ঞতা। অল্পের জন্য সেদনি বেঁচে গিয়েছি। তাই সিদ্ধান্ত নিলাম দেশে ফিরে আসব। পরে লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে আইওএমের সঙ্গে যোগাযোগ করে স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করেন আকবর। তিনিও ১৪৮ জনের সঙ্গে দেশে ফিরেছেন।
এ বিষয়ে আইওএমের ঢাকা কার্যালয় জানায়, ফিরে আসা ব্যক্তিরা আইওএমের মাধ্যমে সামাজিক সেবা, তৎক্ষণিক সেবা, ফিরে আসার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি করা, স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং বাংলাদেশ সরকারের দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সহায়তা পেয়েছে।
এছাড়া ঢাকায় পৌঁছানোর পর আইওএম বাড়ি ফিরতে প্রত্যেককে ৪ হাজার ৭৩০ টাকা, খাবার, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও মানসিক সেবা দিয়েছে। ভবিষ্যতে ফিরে আসা এসব ব্যক্তিকে অর্থনৈতিক সহযোগিতাও করবে আইওএম।
আইওএম বাংলাদেশের চীফ অব মিশন গিওর্গি গিগাওরি বলেন, লিবিয়ার প্রতিকূল অবস্থা অব্যাহত থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ বাংলাদেশীদের সুরক্ষা ও সহায়তা দিতে সর্বদা আমরা তৎপর।
যারা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে তাদের তাৎক্ষণিক সব ধরনের সহযোগিতা নিশ্চিতের চেষ্টা করছি আমরা। একই সঙ্গে ফিরে আসা ব্যক্তিদের দীর্ঘমেয়াদে সহযোগিতাও করব আমরা।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন