বহির্বিশ্ব ডেস্ক : চীনের ‘করোনা ভাইরাস’ ইতোমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে থাইল্যান্ড, তাইওয়ান, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়ায়, যুক্তরাষ্ট্রেসহ অনেক দেশে। এ ভাইরাসে আক্রান্ত অনেককে এরই মধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে। বাড়ছে এ ভাইরাসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা।
তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে ৪৪০ জন। এর মধ্যে নিহত হয়েছেন নয়জন। নিহত মানুষের সংখ্যা পরবর্তীকালে আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। বুধবার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এ তথ্য জানায়।
নতুন এ ভাইরাসটি এক ধরনের করোনা ভাইরাস, যা মানুষের ও প্রাণীদের ফুসফুস সংক্রমণ করতে পারে। ভাইরাসজনিত ঠাণ্ডা বা ফ্লু’র মতো হাঁচি-কাশির মাধ্যমে মানুষ থেকে মানুষে ছড়িয়ে পড়ে এটি।
এ ভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার প্রধান লক্ষণগুলো হলো: শ্বাসকষ্ট, জ্বর, কাশি, নিউমোনিয়া ইত্যাদি। শরীরের এক বা একাধিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নিষ্ক্রিয় হয়ে মৃত্যু হতে পারে। সবচেয়ে আতঙ্কের বিষয় হলো ভাইরাসটি নতুন হওয়ায় এখনো কোনো ভ্যাক্সিন আবিষ্কার হয়নি। এ ভাইরাস সংক্রমণ থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় সংক্রমিত ব্যক্তিদের থেকে দূরে থাকা।
চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে প্রথম এ ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ে। এটি ঠিক কীভাবে ছড়িয়ে পড়লো তা জানতে কাজ করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে তাদের ধারণা, কোনো প্রাণীর মাধ্যমে এ ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়েছে। উহানের স্থানীয় বাজারে যারা আসা-যাওয়া করেছেন তাদের মধ্যেই প্রথম সংক্রমিত হয়েছে এটি।
সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দরে যাত্রীদের স্ক্রিনিং বা পরীক্ষা করা হচ্ছে। পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বাংলাদেশের প্রধান প্রধান বিমানবন্দরেও। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সর্বোচ্চ সতর্ক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) সকালে চীন থেকে আসা যাত্রীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে।
চট্টগ্রামে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চীন থেকে আসা যাত্রীদের স্ক্রিনিং করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম থেকে চীনে সরাসরি ফ্লাইট না থাকলেও মধ্যপ্রাচ্য, দুবাই, ভারত হয়ে কানেকটিং ফ্লাইটে চীন থেকে অনেক যাত্রী আসেন। সিলেটের ওসমানী আর্ন্তজাতিক বিমান বন্দরেও গ্রহণ করা হয়েছে সর্বোচ্চ সতর্কতা।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন