মাস্ক ব্যবহারে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ - সময় আমাদের ২৪

Latest

রবিবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

মাস্ক ব্যবহারে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

মাস্ক ব্যবহারে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
সু-স্বাস্থ্য ডেস্ক : করোনা ভাইরাস এশিয়ার বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ার পর বেড়েছে মাস্কের বিক্রি৷ এই ভাইরাস হাওয়ার ধূলিকণায় মিশে একস্থান থেকে অন্যস্থানে চলে যায় ৷ পাশাপাশি যে জায়গাগুলো একসঙ্গে বহুজনের সমাগম হয় মানে মল-মাল্টিপ্লেক্স জাতীয় জায়গায় ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে।

করোনা ভাইরাস আতঙ্কে কাঁপছে গোটা দুনিয়া৷ স্তন্যপায়ী ও পাখিদের মধ্যে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে৷ চীনের সীমা ছাড়িয়ে সারা বিশ্বে চোখ রাঙাচ্ছে এই ভাইরাস৷ করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচার জন্য বিভিন্ন মানুষ বিভিন্ন উপায় গ্রহণ করছেন৷ অনেকেই মাস্ক পরে রাস্তায় বেরোচ্ছেন। কিন্তু এই মাস্ক কি কোনোভাবে বাঁচাতে পারছে এই প্রাণঘাতী রোগের আক্রমণ থেকে? কী করে সুরক্ষিত রাখবেন?

যেকোনো ধরণের মাস্ক মুখ ও নাক কভার করে বেঁধে নিলেই হবে না। মাস্কের বিশেষ ডিজাইন হলেই তবেই মিলবে রোগ থেকে মুক্তি। এন ৯৫ মাস্ক না পরলে কোনো লাভ নেই৷ WHO -র যে কর্মীরা যে ধরণের মাস্ক পরে কাজ করছেন সেটাই একমাত্র প্রতিষেধক হতে পারে৷

বর্তমান সময় প্রয়োজন ছাড়া ভিড়ে ভরা জায়গায় না যাওয়াই ভালো৷ আর হাত স্যানেটাইজার দিয়ে পরিষ্কার করে তবেই খাওয়াদাওয়া করা উচিত৷

অবশ্য বায়ুবাহিত ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে এই মাস্ক কতটা কার্যকর সে ব্যাপারে যথেষ্টই সংশয়ে আছেন ভাইরাস বিশেষজ্ঞরা, যাদেরকে বলা হয় ভাইরোলজিস্ট।
তবে হাত থেকে মুখে সংক্রমণ ঠেকাতে এই মাস্ক ব্যবহার করে সুফল পাওয়ার কিছু নজির আছে।

মাস্ক ব্যবহারে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
আঠারো শতকে প্রথম সার্জিক্যাল মাস্কের চল শুরু হয়। কিন্তু ১৯১৯ সালে স্প্যানিশ ফ্লু মহামারির আগ পর্যন্ত এই মাস্ক আমজনতার হাতে এসে পৌঁছায়নি।
ওই মহামারিতে ৫ কোটির মত মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।

ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনে সেন্ট জর্জেসের ডঃ ডেভিড ক্যারিংটন বিবিসিকে বলেন, সাধারণ সার্জিক্যাল মাস্ক বায়ুবাহিত ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিতে যথেষ্ট নয়। বেশিরভাগ ভাইরাসই বায়ুবাহিত, তিনি বলেন, এবং এই মাস্কগুলো এতই ঢিলেঢালা থাকে যে এটা বায়ুকে ফিল্টার করতে পারেনা ঠিকঠাক। তাছাড়া যিনি এই মাস্ক ব্যবহার করছেন, তার চক্ষু থাকছে উন্মুক্ত।
তবে হাঁচি বা কাশি থেকে ভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকি কিছুটা কমাতে সাহায্য করতে পারে এই মাস্ক। আর হাত থেকে মুখের সংক্রমণের বিরুদ্ধেও কিছু সুরক্ষা এটা দেয়।

২০১৬ সালে নিউ সাউথ ওয়েলসের একটি সমীক্ষায় বলা হয়, মানুষ প্রতি ঘণ্টায় গড়ে ২৩ বার হাত দিয়ে মুখ স্পর্শ করে।

ইউনিভার্সিটি অব নটিংহ্যামের মলিক্যুলার ভাইরোলজির অধ্যাপক জোনাথন বল বলেন, হাসপাতালের মধ্যে একটি নিয়ন্ত্রিত সমীক্ষায় দেখা গেছে রেসপিরেটর হিসেবে তৈরি ফেস মাস্ক ইনফ্লুয়েঞ্জা ঠেকাতে পারে।
রেসপিরেটর হচ্ছে এমন একধরণের কৃত্রিম শ্বাসযন্ত্র যার মধ্যে থাকে একটি বিশেষায়িত ফিল্টার।

মূলত বায়ুবাহিত ক্ষতিকর ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র পদার্থের হাত থেকে শ্বাসনালীকে সুরক্ষা দেয়ার জন্য রেসপিরেটর তৈরি করা হয়।
অধ্যাপক বল বলেন, "সাধারণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে এই সমীক্ষা চালালে যে তথ্য পাওয়া যাবে, সেটা একইরকম হবে না, কারণ দীর্ঘসময় ধরে টানা একটি মাস্ক পরে থাকা বেশ চ্যালেঞ্জের ব্যাপার"।

কুইন্স ইউনিভার্সিটি অব বেলফাস্টের ওয়েলকাম-উল্ফসন ইনস্টিটিউট ফর এক্সপেরিমেন্টাল মেডিসিনের ডঃ কনর বামফোর্ড বলেন, সাধারণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেই ছোঁয়াচে ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে কার্যকরভাবে সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব।
তিনি বলেন, "যখন হাঁচি দিচ্ছেন তখন মুখটি ঢাকুন, তারপর হাতটি ধুয়ে নিন এবং ধোয়ার আগ পর্যন্ত মুখের ভেতরে হাত না ঢোকান - শুধুমাত্র এটুকুতেই নিঃশ্বাসের মাধ্যমে ছড়ানো ভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকি যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখবে"।

মাস্ক ব্যবহারে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
ভাইরাস সংক্রমণ এড়াতে এনএইচএস-এর তিনটি পরামর্শ:

১) গরম পানি ও সাবান দিয়ে নিয়মিত হাত ধোন।

২) যথাসম্ভব নিজের চোখ ও নাক স্পর্শ থেকে বিরত থাকুন।

৩) যথাসম্ভব স্বাস্থ্যকর জীবনাচরণ পালন করুন।

পাবলিক হেলথ ইংল্যান্ড-এর ডঃ জেক ডানিং বলেন, যদিও একটি ধারণা আছে যে মাস্ক ব্যাবহার করা উপকারী, কিন্তু বাস্তবে হাসপাতালের পরিবেশের বাইরে এই মাস্ক ব্যবহারের ব্যাপকভিত্তিক উপকার পাওয়ার খুব কম নজিরই আছে।

তিনি আরো বলেন, মাস্ক যদি পরতেই হয় এবং এটা থেকে উপকার পেতে হয়, তবে সেটা পরতে হবে সঠিকভাবে। বদলাতে হবে নিয়মিত। এবং এগুলো যেখানে সেখানে ফেলা যাবে না, এক্ষেত্রেও নিরাপত্তা নির্দেশিকা মানতে হবে।
ডঃ ডানিং বলেন, সত্যিই যদি উদ্বিগ্ন হয় মানুষ, তবে তারা ব্যক্তিগত ও হাতের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার দিকে নজর দিলেই ভালো করবে। 

তথ্যসূত্র : বিবিসি ও স্যোসাল মিডিয়া

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন